Walt Heyer [পুরুষ থেকে নারী- অতঃপর নারী থেকে পুরুষ]
Walt Heyer ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস এর এক ছোট্ট বালক।
ছোটবেলায় সে নানা বাড়ি থাকতো। তার নানী দর্জির কাজ করতো এবং সে খুব আগ্রহ ভরে সে কাজগুলো দেখতো। একদিন শখের বসে তার নানী তাকে একটি গোলাপি রঙের জামা বানিয়ে দেয়৷ চার বছর বয়সী ছেলে বাচ্চার গায়ে জামা পরা দেখে তার নানী খুব প্রশংসা করছিল। তখন থেকেই সেই গোলাপি রঙের জামার প্রতি তার অন্যরকম ভালো লাগা তৈরি হয়ে যায়। এই ভালোলাগা এবং নানীর প্রশংসা তাকে বারবার জামাটি পরতে আগ্রহী করে তোলে এবং তার মস্তিষ্কে এক গভীর প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে সে জামাটি বাসায় নিয়ে যায় এবং লুকিয়ে রাখে। একদিন তার মা জামাটি দেখে ফেলে এবং তাকে বকাঝকা করে। তার বাবাও প্রচন্ড রেগে যায় এবং মারধর করে।
মাত্র ১০ বছর বয়সে সে তার দুঃসম্পর্কের চাচার মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। এটি তার মধ্যে এক ধরনের ট্রমা সৃষ্টি করে। একদিকে গোলাপি রঙের জামার প্রতি তার নানীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদিকে তার বাবা-মার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তার লিঙ্গ সম্পর্কে তাকে সন্ধিহান করে তোলে। পরবর্তীতে সে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পৃথিবী বিখ্যাত কিছু কোম্পানিতে চাকরি করলেও ছোটবেলার ট্রমা ও গোলাপি জামার স্মৃতি তার মধ্যে জেন্ডার আইডেন্টিটি ক্রাইসিস তৈরি করে। এই আইডেন্টি ক্রাইসিস তাকে এক জেন্ডার স্পেশালিস্ট পল ওয়াকার এর কাছে নিয়ে যায়। দুর্ভাগ্যবশত সেই ডাক্তার ছিল হোমোসেক্সচুয়াল ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট।
তার জেন্ডার ডিসফোরিয়া বা জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসওর্ডার এর সমস্যা আছে বলে ডাক্তার উল্লেখ করে এবং সমাধান হিসেবে দ্রুত তার শরীরে কিছু হরমোন নেয়া এবং সার্জারি করার জন্য পরামর্শ দেয়। সে ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়ে রূপান্তর হয়ে যায়। সে এবং তার মতো বাকিদের ট্রিটমেন্ট হিসেবে শরীরে হরমোন নেয়া এবং সার্জারি করাকে রোগীদের কাছে পরিচিত করাকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করে।
দীর্ঘ ৮ বছর সে রূপান্তরিত নারী হিসেবে কাটায়। এ সময়ে সে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়ে। যেমন- মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল নেয়া ও ড্রাগ এডিকশন। সে বিবাহিত ছিল এবং তার দুজন সন্তান ছিল। পরবর্তীতে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। লিঙ্গ পরিবর্তনের এ কালো থাবা তার থেকে সব কিছু কেড়ে নেয়। নিজের পরিচয়, পরিবার, ক্যারিয়ার সবকিছু হারিয়ে সে প্রচন্ড হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকবার সুইসাইড পর্যন্ত করতে চায়। সার্জারি করে বাহ্যিকভাবে তার দেহ আকৃতি নারীদের মত হলেও মানসিকভাবে সে নিজের মধ্যে পুরুষত্ব লালন করছিল। সে নারী নাকি পুরুষ- তা নিয়ে প্রচন্ড দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে এবং শেষমেষ নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনায় ভুগে এবং এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে যায়। সাইকিয়াট্রিস্টের সঠিক পরামর্শ এবং চিকিৎসায় সে আবারও জন্মগত লিঙ্গে ফেরত যায়।
বর্তমানে সে Sex change Regret নামক একটি ওয়েবসাইটে নিয়মিত কাজ করছে ট্রান্সজেন্ডার, অভিভাবক এবং এমন ব্যক্তিদের সাথে যারা নিজেদের জন্মগত লিঙ্গ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। পাশাপাশি সে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার, কলেজের অধ্যাপকদের সাথেও কাজ করছে। অস্ত্রোপচার করে লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো একটি জঘন্য কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখাই তার এখন মূল লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র:
১. https://www.focusonthefamily.com/get-help/trading-my-sorrows-a-story-of-healing-from-transgenderism/
২. I Became Transgender. Here’s Why I Regret It.
