
ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে তৈরি ‘রূপান্তর’ নামের একটি নাটক ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ সালে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান একান্ন মিডিয়া’র ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়।
নাটকটির পৃষ্ঠপোষক ছিল ওয়ালটন, পরিচালনা করেন রাফাত মজুমদার রিংকু এবং নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন ছোট পর্দার অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান।
নাটকটির মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার সংস্কৃতিকে প্রমোট বা প্রচার করা হয়েছে–এই অভিযোগে নাটকটি ইউটিউবে প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শকরা ‘ওয়ালটন’ এর পণ্য বয়কটের ডাক দেয়। প্রতিবাদের মুখে ইউটিউবে প্রকাশিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
নাটকের পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটন এক ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, “ নাটকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের জানা ছিল না। যাদের সাথে নাটকের স্পন্সর করার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল, সেই বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘লোকাল বাস এন্টারটেইনমেন্ট’কে তারা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সব ধরনের বিজ্ঞাপনী চুক্তিও বাতিল করেছে।
নাটকে দেখানো হয়, ১৯৮৯ সালে নরসিংদীতে একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় মোট ১৭০ জন মারা যান। সেসময় সৌরভের বয়স ছিল এক বছর। ভাগ্যক্রমে সেই দুর্ঘটনায় সৌরভ বেঁচে গেলেও তার মা মারা যান। সৌরভকে উদ্ধার করার পর তাকে শিশু সদনে পাঠানো হয়, সেখানেই বড় হন তিনি।
পরিবার-পরিজন ছাড়া বেড়ে ওঠা সৌরভ তার শিল্পকর্মের গুণে একসময় একজন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী হয়ে ওঠেন। নাটকে তাকে অনেক মানুষের পোট্রেট আঁকতে দেখা যায়।
ঘটনাক্রমে তিনি এই নাটকের আরেক চরিত্র রিমঝিমেরও পোট্রেট আঁকেন। রিমঝিম সেই পোট্রেট দেখে মুগ্ধ হন এবং তার মাঝে শিল্পীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার আগ্রহ জন্ম নেয়।
এক পর্যায়ে তিনি শিল্পী সৌরভকে খুঁজে বের করেন এবং তার সঙ্গে দেখা করেন। সৌরভের মেয়েদের মতো সাজপোশাক দেখে অবাক হয় রিমঝিম।
নাটকে দেখা যায়, সৌরভের বেশভূষায় থাকছে শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ, কপালে টিপ, গলায় পুঁতির মালা, হাতে চুড়ি, নাকে নথ, কানে দুল, চোখে গাঢ় কাজল, মাথায় পরচুল, হাতে নেইলপলিশ ইত্যাদি।
সৌরভের বেশভূষা তার কাছে অস্বাভাবিক লাগলেও তিনি শেষমেষ তার প্রেমে পড়েন। এক পর্যায়ে, রিমঝিমের পক্ষ থেকে পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয় সৌরভের কাছে।
কিন্তু সৌরভ রিমঝিমের মাকে সরাসরি জানিয়ে দেন যে বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব না। তবে রিমঝিম নাছোড়বান্দা। তিনি তার মাকে জানান যে বিয়ে করলে তিনি সৌরভকেই করবেন।
শেষে একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে জানানো হয়, সৌরভ হরমোনজনিত এক সমস্যায় আক্রান্ত।
চিকিৎসকের ভাষায়, “সৌরভ ডিজঅর্ডার অব সেক্স ডেভেলপমেন্ট (ডিএসডি)-তে আক্রান্ত। একটি শিশুর জন্মগতভাবে জেনেটিক সেক্স থাকে, আরেকটি থাকে ফেনোটাইপিক সেক্স। এই দুইয়ের মাঝে অসামাঞ্জস্য থাকলে সেক্স প্রকাশিত হয় না।”
নাটকে চিকিৎসকের ব্যখ্যা অনুযায়ী, সৌরভ ‘জেনেটিক্যালি’ একজন মেয়ে। শুরুতে তার মেয়েলি হরমোন বিকশিত না হলেও, পরবর্তীতে সেটি বিকশিত হতে থাকে।
অর্থাৎ, সৌরভ দেখতে পুরুষের মতো হলেও তিনি একজন নারী।
‘রূপান্তর’ নাটকের মূল গল্প এটিই।
তথ্য সূত্র: https://www.bbc.com/bengali/articles/cydr4030mnlo
