ইদানীং সরকারী কর্মজীবী নারী হোস্টেলের মতো সম্পূর্ণ নারীদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক প্রতিষ্ঠানেও ট্রান্সজেন্ডারদের থাকার সুযোগ করে দিয়ে তাদেরকে অসংখ্য নারীদের মাঝে অবাধ বিচরণের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে যে হোস্টেলে বসবাসরত অন্যান্য নারীদের নিরাপত্তা, পর্দা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা লঙ্ঘনের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর পরিচালিত মিরপুরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ট্রান্সজেন্ডার নারী জারা রহমান কে, যিনি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মানবসম্পদ বিভাগের অধীনে পে–রোল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জারা রহমান বলেন, ”বাসা নিয়ে সমস্যায় আছি, এটা জানার পর ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী হো চি মিন ইসলাম আমাকে নিয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে যান। আমরা দুজনই ভেবেছিলাম, সেখানে গিয়ে আসলে কোনো লাভ হবে না। তবে অবাক হলাম, অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিলেন। সিট পেতে হলে কী কী করতে হবে, সব বলে দিলেন। যে হোস্টেলে সিট পেতে যাচ্ছি, সেখানকার হোস্টেল সুপারকে নির্দেশনা দিলেন। ট্রান্সজেন্ডার হয়ে এত সহজে সরকারি হোস্টেলে সিট পাব, তা স্বপ্নেও ভাবিনি।”
হোস্টেল সুপার ছামিনা হাফিজ বলেন, ”এর আগে কোনো ট্রান্সজেন্ডার সরকারি হোস্টেলে সিটের জন্য আবেদন করেননি। জারা রহমান প্রথমবারের মতো আবেদন করেছেন। হোস্টেলে সিট পেতে হলে যেসব ক্রাইটেরিয়া (শর্ত) থাকা প্রয়োজন, তা ওনার আছে। ওনাকে একটি একক সিট দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে, যাতে তিনি হোস্টেলে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন।”
হোস্টেল সুপার আরও বলেন, ”সরকার ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়াদের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। জারা রহমানকে সিট দিতে পেরে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও খুশি হয়েছেন। তিনি হোস্টেলে থাকার পর কোনো কোনো নারী এ নিয়ে আপত্তি তুলতে পারেন, তবে যাতে কোনো ঝামেলা না হয়, তা সার্বিকভাবে নজরদারি করা হবে।”
এভাবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ট্রান্সজেন্ডারদের নারীদের নরমালাইজ করার চেষ্টা নি:সন্দেহে উদ্বেগজনক।
তথ্যসূত্র: https://www.prothomalo.com/bangladesh/61dxb96kvh
