বাংলাদেশে রীতিমতো আইন প্রনয়ন করে ট্রান্সজেন্ডারবাদ তথা এলজিবিটি এজেন্ডা প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়া চলছে। ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাম্প্রতিক দেশকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ট্র্যান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় আইন দ্রুত পাশ হবে’ শিরোনামের এক খবরে বলা হয়েছে,
“সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমরা ট্র্যান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় আইনের খসড়া প্রণয়ন করতে পেরে খুশি। এই কমিউনিটির সদস্যদের সমাজের মূলস্রোতধারায় আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।”
অর্থাৎ আইনের মাধ্যমে এধরণের বিকৃতিকে মূলস্রোতে মিশিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। আর তা করা হচ্ছে অধিকারের নামে। ৫ই ডিসেম্বর ২০২৩-এ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘সম্পত্তিতে অধিকার পাবেন ট্রান্সজেন্ডার সন্তানরা’, শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
“ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০২৩ ’শীর্ষক আইন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পাস করা হবে বলে জানান সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খায়রুল আলম শেখ। তিনি বলেন,
“নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করার জন্য আমরা কাজ করছি। এক বছরের মধ্যে আইনটি করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সরকার চায় এই বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায় হোক। তাই এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় ইতিমধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নেতৃত্বে এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দ্বারা গঠিত একটি কমিটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে।”
যার অর্থ হলো, যথাসম্ভব দ্রুততার সাথে এ আইনের খসড়া হয়েছে এবং তা পাস করানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রক্রিয়ার পেছনে মূল চালিকা শক্তি হিসাবে আছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক, বিভিন্ন এনজিও এবং মার্কিন সরকার। এ বিষয়টি উঠে এসেছে মার্কিন রাজনীতিবিদদের বক্তব্যেই।
ফ্লোরিডা রাজ্যের রিপাবলিকান গর্ভনর রন ডিস্যান্টিস ২০২৪ এর জানুয়ারিতে মার্কিন সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন ইউএসএইডের মাধ্যমে বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশে ট্র্যান্সজেন্ডারবাদ প্রচারে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করছে। এটা অ্যামেরিকান জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয়। তবে সিএনএন জানিয়েছে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ২০১৮ সালে।
ইউএসএইডের যে প্রতিবেদনগুলোর বরাতে রন ডিস্যান্টিস অভিযোগ করেছেন, সেখানে ঠিক কী বলা হয়েছে তা দেখা যাক। বলা হয়েছে,
”বাংলাদেশে এলজিবিটি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি অর্গানাইযেইশান বা নাগরিক সংগঠনকে সহায়তা দিচ্ছে তারা। আর এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২০২১ সালে আদমশুমারীতে প্রথমবারের মতো ‘তৃতীয় লিঙ্গ’-এর জন্য আলাদা ঘর যুক্ত করা হয়েছে।”
তারপর বলা হয়েছে,
”লিঙ্গ বৈচিত্র্যপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রকল্পে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে একটি ট্র্যান্সজেন্ডার আইনের খসড়া জমা দিয়েছে, যাতে যৌন বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং অন্যান্য অধিকার বৃদ্ধি পায়।”
অর্থাৎ ইউএসএইডের অর্থায়নে ‘নাগরিক সংগঠন’গুলো বাংলাদেশ ট্র্যান্সজেন্ডার আইনের খসড়া তৈরি করেছে। সেই নাগরিক সংগঠন করা?
এই প্রশ্নের উত্তর আছে ইউএসএইডের আরেক প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ট্র্যান্সজেন্ডারবাদের প্রচারের সেই প্রকল্পের টাকা দেয়া হয়েছে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটিকে।
এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত-ও ইউএসএইডের অর্থায়নে এলজিবিটি এজেন্ডা প্রতিষ্ঠার আরেকটি প্রকল্পে কাজ করেছে বন্ধু। শুধু তাই না ইউএসএইডের অর্থায়নে ‘সমতা’ নামে আরেকটি ৫ বছর ব্যাপী প্রকল্প চলছে বাংলাদেশে। এখানেও আছে বন্ধু। এই প্রকল্পের অধীনে কাজ চলছে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে।
ট্র্যান্সজেন্ডার আইনের পেছনে বন্ধু-র ভূমিকার কথা উঠে এসেছে তাদের নিজস্ব প্রতিবেদনেও। বন্ধু-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
”সমাজসেবা অধিদফতর এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বন্ধু-র সাথে কোলাবরেশন করেছে, এবং ট্র্যান্সজেন্ডার সুরক্ষা আইন বাংলাদেশের খসড়া প্রস্তুত করেছে।”
এই সহযোগিতা ঠিক কেমন তার বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে, বন্ধু-র আরেকটি প্রতিবেদনে। এ প্রতিষ্ঠানের পচিশ বছর পূর্তী উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্র্যান্সজেন্ডার সুরক্ষা আইনের খসড়া তৈরি করেছে বন্ধু-ই। তারপর তারা সেটা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে।
২০২১-এ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাথে প্রাথমিক আলোচনা আয়োজন করা হয়, বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার আইনের একটি খসড়া তৈরি করে এবং পর্যালোচনার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে জমা দেয়।[7]
এই খসড়াটিই পরে গৃহীত হয়েছে। টাইমলাইনটা লক্ষ্য করুন।
বন্ধু এবং তাদের অ্যামেরিকান মনিবরা বলছে ২০২১ সালে তারা খসড়া বানিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে ২০২২ এর মার্চ মাসে সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখছি, “সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমরা ট্র্যান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় আইনের খসড়া প্রণয়ন করতে পেরে খুশি।
তারপর আবার ২০২৩ এর সেপ্টেম্বরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজিত কর্মশালাতে বলা হচ্ছে ‘ট্র্যান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় আইন দ্রুত পাশ হবে’।
সবশেষে ২০২৩ এর ডিসেম্বরে বলা হচ্ছে, ‘ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০২৩ শীর্ষক আইন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পাস করা হবে’, ‘এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় ইতিমধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নেতৃত্বে এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দ্বারা গঠিত একটি কমিটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে’।
অর্থাৎ এজেন্ডা আর পয়সা দিয়েছে অ্যামেরিকা ও এডিবি, তাদের ফরমায়েশ অনুযায়ী আইনের খসড়া বানিয়েছে বন্ধু, আর সেটাই গৃহীত হয়ে গেছে!
উপরের তথ্যগুলো ও স্বীকারোক্তি থেকে অকাট্যভাবে প্রমান হয় যে বাংলাদেশে ট্র্যান্সজেন্ডারবাদ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্বের নির্দেশনায়, এবং এটি করা হচ্ছে এলজিবিটি এজেন্ডার অংশ হিসেবে।
তথ্যসূত্র: https://chintaporadh.com/behind-the-curtain-5
