Isabelle Ayala
ফ্লোরিডার একজন নারী ‘আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াক্ট্রিকস’ এর উপর মামলা করেন, যাকে মাত্র ১৪ বছর বয়সে মেডিক্যালি ট্রানজিশন প্রসেসের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নারী থেকে পুরুষে রূপান্তর করার জন্য।
তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে অপ্রাপ্তবয়সে অতি দ্রুততার সাথে এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার মূলে ছিলো একদল অভিনেতা যাদের কাছে বাচ্চাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতার চেয়ে রাজনীতি এবং (বিকৃত) মতাদর্শ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
রোড আইল্যান্ডে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা ২০ বছর বয়সী সেই তরুণীর নাম ইসাবেলে আয়ালা।
ফ্লোরিডার ওয়েলিংটনে বসবাসকারী আয়ালা দ্য পোস্ট নামক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ” আমি সত্যিই চাই না এটি অন্য কোনো অসহায় ব্যক্তির সাথে ঘটুক। আমি চাই না বয়ঃসন্ধিকালকে কারো কাছে শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা হোক। আর আমি এটাও চাই না যে, আমাদের প্রাকৃতিক জৈবিক বিষয়গুলোকে আমাদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হোক।”
IWF এ দেয়া সাক্ষাৎকারে আয়ালা জানান তিনি শৈশবে প্রচন্ড বুলির শিকার হতেন এবং চাইল্ড অ্যাবইউজ এর মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা তার জীবনকে এলোমেলো করে দিয়েছিল।
মাত্র ৮ বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হওয়ায় বয়ঃসন্ধিকালীন স্ট্রাগল, সেইসঙ্গে শৈশবের যৌন নিপীড়ন পরবর্তী ট্রমা আয়ালাকে তার মেয়েলী বৈশিষ্ট্যগুলোর উপর প্রচন্ড বিরক্তবোধ করায় এবং সে বিশ্বাস করতে শুরু করে ছেলে হলেই ভালো হতো!
আয়ালাকে সহ্য করতে হয়েছিলো বেশ কিছু হৃদয়বিদারক ঘটনার একটি সিরিজ ফলে আয়ালা নিজের মেয়ে হওয়ার উপর বিরক্ত হতে থাকে এবং ঘৃণা করতে শুরু করে। সে ভাবতে থাকে মেয়ে বলেই হয়তো তাকে এইসব পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।
মাত্র ১১ বছর বয়সে অনলাইনে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ট্রান্সজেন্ডার একটিভিস্ট কমিউনিটির খোঁজ পায় আয়ালা। এই কমিউনিটির কাছেই সান্ত্বনা পায় সে আর ভাবতে শুরু করে এটাই তাকে সুস্থ করে তুলবে। আয়ালা নিজের নারীত্ব থেকে মুক্তি পাওয়াকে সমাধান হিসেবে দেখতে শুরু করে।
সে এই ট্রান্স একটিভিস্টদের কাছ থেকে জানলো আত্মহত্যার মেকি অভিনয় করে দ্রুত টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রেসক্রিপশন পাওয়া যায়।
২০১৭ সালে ১৪ বছর বয়সে আয়ালা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে ট্রানজিশনের এবং মেকি আত্মহত্যার কথা বলে মা-বাবাকেও কনভিন্স করতে সক্ষম হয়।
আয়ালাকে জেন্ডার ক্লিনিকে রেফার করা হয় এবং ট্রান্সজেন্ডার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. জেসন রাফার্টি আয়ালায় সমস্যাটি ‘জেন্ডার ডিসফোরিয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
৪৫ মিনিটের একটি মাত্র ভিজিটে ডাক্তার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে আয়ালা ক্রস-সেক্স হরমোন গ্রহণ করলেই সুস্থ হয়ে উঠবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা মূলত তার পূর্বে নির্ণীত রোগ অটিজম, ADHD এবং PTSD কে উপেক্ষা করে গিয়েছিল।
ডাক্তাররা মিথ্যা বলেছিলেন যে আয়ালা ডিপ্রেশন, Anxiety, PTSD এবং আত্মহত্যা প্রবণতার একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা ক্রস-হরমোন থেরাপি।
অথচ ট্রিটমেন্ট নিতে শুরু করার এক বছরেরও কম সময়ের ভিতরে আয়ালা সত্যি সত্যিই আত্মহননের চেষ্টা করেন।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, ৩, ৫ কিংবা ১০ বছর পর লাগাতার টেস্টোস্টেরন হরমোন গ্রহণের ফলে আয়ালা যেই সাইড ইফেক্টের মুখোমুখি হতে যাচ্ছিল সেটা সম্পর্কেও তাকে কোনো পূর্ব ধারণাও দেয়া হয়নি।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওমেনস ফোরামের স্টোরিটেলিং ডিরেক্টর এবং নির্বাহী প্রযোজক কেনসি বোলার বলেন, তথাকথিত জেন্ডার মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের জন্য আয়ালা ছিলো একটা গিনিপিগ মাত্র। এই এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিনের পথে আয়ালাকে ধারাবাহিকভাবে নামিয়ে আনার পিছনে তারাই দায়ী।
২০২০ সাল, আয়লা তখন ১৭ বছর বয়সী কিশোরী। আয়লা নিজের নারীসুলভ আচরণ প্রকাশ করার তাড়না অনুভব করতে শুরু করে। একজন ডি- ট্রানজিশনার ইউটিউবারের কাছ থেকে সে অনুপ্রেরণা পায় এবং দ্রুতই সে বুঝতে পারে তার রূপান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত একটি মস্ত বড় ভুল ছিল।
তিন বছর পর, এখনও আয়ালা টেস্টোস্টেরনের প্রভাবে শরীরের অতিরিক্ত লোম, Vaginal Atrophy এবং পরিবর্তিত হাড়ের গঠন নিয়ে স্টাগল করে যাচ্ছেন। এমনকি তিনি নিজের মেয়েলী কন্ঠস্বর সারাজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলেছেন।
শুধু তাই নয়, আয়ালা এখন Hashimotos রোগেও ভুগছেন। এটি একটি অটো-ইমিউন রোগ, যেটা আয়ালার পরিবারিক ইতিহাসে শুধুমাত্র পুরুষদের দেখা দিয়েছিলো। আর টেস্টোস্টেরন গ্রহণের ফলে পরিবারে প্রথম মেয়ে হিসেবে তার মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
আয়ালার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন তার ফার্টিলিটি নিয়ে। তিনি গাইনেকোলজিস্টের কাছে যেতেও ভয় পাচ্ছেন এই ভেবে যে, তাকে বলা হবে সে কখনোই মা হতে পারবে না।
আদালতে আয়ালার দায়ের করা মামলায় ৭ জন ডাক্তার সহ মোট ১৪ জনকে সিভিল কন্সপাইরেসি, ফ্রড এবং মেডিক্যাল ম্যালপ্র্যাকটিসের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। চিকিৎসকদের মধ্যে ডাক্তার জেসন রাফার্টির নামও উল্লেখ রয়েছে, যিনি প্রথম সাক্ষাতেই আয়ালাকে টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রাইব করেছিলেন। আয়ালার ভাষ্যমতে উক্ত ডাক্তারদের এই চিকিৎসা পেশা প্র্যাকটিস করার কোনো অধিকার নেই।
আয়ালার আইনজীবী জর্ডান ক্যাম্পবেল জানান, কোনো প্রকার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাইকো বিহেভিয়রাল বা আচরণগত পার্থক্য নির্ণয় ছাড়াই শুধুমাত্র আয়ালার কথার উপর ভিত্তি করে ডাক্তাররা তাকে টেস্টোস্টেরন সাজেস্ট করেন। এই হরমোন তার মেন্টাল হেলথ সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান নয় এটা জানা সত্বেও আয়ালাকে এই হরমোন চালিয়ে নেয়ার জন্য উদ্ভুদ্ধ করেছেন।
ডাক্তার রাফার্টি আমেরিকান একাডেমি অব পিডিয়াট্রিক্সের LGBTQ+ স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কমিটির চেয়ারম্যান। আয়ালার চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে তিনি Gender Affirming Care বিষয়ে AAP এর (আমেরিকান একাডেমি অব পিডিয়াট্রিক্স) নির্দেশিকা সক্রিয়ভাবে রচনা করছিলেন। সেটা প্রায় ১ বছর পর ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং সারাদেশের ট্রান্স যুবক-যুবতীদের চিকিৎসার স্টান্ডার্ড হিসেবে বিবেচিত হয়!
আয়ালার ভাষ্যমতে ডাঃ রাফারটির প্রক্রিয়াধীনে থাকা নির্দেশিকা প্রস্তুতের জন্য তাকে একটা গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। এই ঝুকিপূর্ণ চিকিৎসা পরিচালনার জন্য AAP এর বিরুদ্ধে সিভিল কন্সপাইরেসি অভিযোগ এনে মামলা করা হয়।
যদিও অন্যান্য ডি-ট্রানজিশনারদেরও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনা পাওয়া যায় কিন্তু আয়ালার কেসই প্রথম যেখানে AAP কে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সারাজীবনের জন্য আয়ালা তার ট্রানজিশনের ভয়াবহ পরিণতির সাথে যুদ্ধ করতে চলছেন তাই আয়ালা চান তার এই ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হোক, কঠোর শাস্তি দেয়া হোক এবং তাকে তার ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক।
এখনো আয়ালাকে তার পেইন ম্যানেজমেন্টের জন্য ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয় কিন্তু তার অর্থনৈতিক বিবেচনায় সেটাও তার জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছে।
তার মা সুষ্ঠুভাবে পরিবার পরিচালনা করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কিন্তু আয়ালা তাকে সেভাবে সাহায্য করতে পারছেন না। কারণ ট্রানজিশন পরবর্তী প্রভাবে আয়ালা শারীরিকভাবে অনেক কিছুই করতে সক্ষম নন।
আয়ালা এমন একটি পরিস্থিতিতে চলে এসেছেন যেখান থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মাঝে মাঝে এটা ভেবে আয়ালা দুঃখ বোধ করতেন, ডিপ্রেশনেও চলে যেতেন। তবে আয়ালা এখনো কিছুটা আশাবাদী, হয়ত সে কোনোদিন ব্যথা, দূর্বলতা মুক্ত হয়ে জীবন যাপন করতে পারবেন।
IWF এর “আইডেন্টিটি ক্রাইসিস” সিরিজে আয়ালা জানান, আমি শারীরিকভাবে সম্পুর্ন সুস্থ একজন শিশু ছিলাম। যদি নিজেকে আরেকটু মূল্যায়ন করতে পারতাম তাহলে হয়ত আমার সাথে এমনটি হতে পারতো না। মাত্র ৪৫ মিনিট আয়ালার জীবনকে এক অপরিবর্তনীয় মোড়ে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয়, যেখান থেকে ফিরে যাওয়ার আর কোনো পথই খোলা নেই।
তথ্যসূত্র:
১. Detransitioner suing American Academy of Pediatrics
২. Identity Crisis: The Detransitioner Taking on The American Academy of Pediatrics
