Kayla Lovdahl AKA Layla Jane
মাত্র ১৮ বছর বয়সে Kayla Lovdahl AKA Layla Jane ইতিমধ্যেই ট্রানজিশনের মাধ্যমে নিজেকে ছেলে হিসেবে রূপান্তরের চেষ্টা করেছেন, পরবর্তীতে নিজের সিদ্ধান্তের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে নিজের জন্মগত লিঙ্গ পরিচয়ে ফিরে এসেছেন।
লায়লার গল্পটি ছিলো অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং দুঃখজনক ঘটনা।
মাত্র ১১ বছর বয়সে অনলাইনে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির সাথে পরিচিতি হওয়ার পর লায়লা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে, সে একজন ছেলে।
আর ১২ বছর বয়সেই ডাক্তার তাকে পিউবার্টি ব্লকারস এবং টেস্টেস্টেরন প্র্যাসক্রাইবড করেন! ডাক্তার তাকে যথেষ্ট মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিলেন বলে মনে করেন লায়লা।
সাক্ষাতকালীন সময়ে ডাক্তার লায়লার মা-বাবাকে বলেন, “একজন মৃত কন্যার চেয়ে একজন জীবিত পুত্র থাকা ভালো।”
মাত্র ১৩ বছর বয়সে লায়লা তার চেস্টকে পুরুষালি রূপ দিতে ডাবল ম্যাসেক্টমি করিয়ে তার সুস্থ স্বাভাবিক স্তন অপসারণ করিয়েছিলেন।
লায়লার মতে, চারপাশের এক্সপার্ট আর প্রোফেশনালরা ছোট্ট বয়সে তার নেয়া ভুল সিদ্ধান্তগুলো থেকে তাকে রক্ষা করতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
পরবর্তীতে ১৭ বছর বয়সে লায়লা নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং ডি-ট্রানজিশনের পথে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু কোনো ধরনের অঙ্গহানি ছাড়া পূর্বের সেই সুস্থ স্বাভাবিক দেহে লায়লার আর ফিরে যাওয়ার আর কোনো পথই খোলা নেই!
সেই আক্ষেপই ফুটে উঠেছিলো ইউটিউবে Chloe Cole কে দেয়া তার এক সাক্ষাতকারে।[2]
অপ্রাপ্তবয়সে তাকে এমন তড়িৎ সিদ্ধান্তের বলি বানানোর জন্য লায়লা হসপিটাল ও ডাক্তারদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার এই বাসিন্দা কায়সার ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এবং চারজন স্বতন্ত্র ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং তার গভীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সৃষ্টির জন্য অনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণও চেয়েছেন।
মামলায় উল্লেখ রয়েছে, ১২ বছরের একটা শিশু যে জটিল মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন তার প্রয়োজন ছিলো একটু সহানুভূতি, যত্ন, মনোযোগ, প্রয়োজন ছিলো সাইকোথেরাপির। এখানে ক্রস সেক্স হরমোন কিংবা সার্জারি করে অঙ্গহানি করার কোনো প্রয়োজনই ছিলো না।
অথচ ডাক্তাররা এমন একটি প্রেসক্রিপশন সাজেস্ট করেছিলেন যার মাধ্যমে লায়লার নিষ্পাপ শিশুসুলভ আবেগ-অনুভূতিগুলো বিশাল এক রোলারকোস্টারের ভিতর দিয়ে গিয়েছে যেটা তথাকথিত চিকিৎসার নামে চালিয়ে নেয়া হয়েছে।
লায়লার অ্যাটর্নি, সেন্টার ফর আমেরিকান লিবার্টির মার্ক ই. ট্রামেলের ভাষায় অপ্রাপ্তবয়সে এত দ্রুত ট্রানজিশনের অনুমতি দিয়ে হসপিটাল এবং ডাক্তাররা মেডিকেল প্রফেশনের স্টান্ডার্ড প্র্যাকটিসকে লঙ্ঘন করেছেন এবং প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
এই সম্পর্কে কায়সার ফাউন্ডেশন হসপিটাল কতৃপক্ষ বলছেন তারা রোগীর এবং রোগীর পরিবারের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নেয়া সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকারকে সম্মান করেন।
ট্রাজিক্যালি লায়লা এখন ক্রমবর্ধমান ডি-ট্রানজিশনার তরুন-তরুনীদের দলে যুক্ত হয়ে ট্রানজিশন পরবর্তী অনুশোচনা সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করছেন।
যখন কায়লা ডি-ট্রানজিশন নিয়ে রিপোর্ট করেছিলো তখনও এই ঘটনাটি মানুষের নিকট খুব কম পরিচিত ছিলো। পরবর্তী সময়গুলোতে আরও অধিক সংখ্যক ডি-ট্রানজিশনারস এবং মেডিকেল প্রফেশনালদের থেকে জেন্ডার কেয়ার সম্পর্কে বিপদের অ্যালার্ম বাজাতে শোনা যায়।
অনেক সাহসী ডি-ট্রানজিশনার রয়েছেন, যারা কিনা তাদের জীবনের গল্প শেয়ার করতে চান, মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করতে চান। কিন্তু তাদের মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছে সেই একই ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির মাধ্যমে, যারা কিনা এক সময় তাদের অনুপ্রাণিত করতো এবং ট্রানজিশন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য বাহ্ বাহ্ও দিতো!
এখানেই ট্রান্স কমিউনিটির নৈতিক গ্রাউন্ড আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়! নইলে কেবল মাত্র ভুল শরীরে আটকে আছি ধারণা থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের শরীরের সুস্থ স্বাভাবিক অঙ্গহানি করা থেকে বিরত রাখার সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরতে বাধা কেনো দিবে?
বর্তমানে ট্রান্স ইস্যু একটি সাংস্কৃতিক যুদ্ধে পরিনত হয়েছে। এটি এমন এক মতবাদ যেটা একটি সমাজ এবং জাতি ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি না হলে লায়লার মতো হাজারো কিশোর-কিশোরীকে ট্রান্স মতবাদের বলি হতে দেখতে হবে।
তথ্যসূত্র:
১/ Kids shouldn’t undergo irreversible gender transition surgeries
২/ The Disruption Reality of Child Transition | Layla Jane
